পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
পাকুন্দিয়ায় জমি বিক্রেতার স্বজনদের বিরুদ্ধে ক্রেতার পরিবারের জমি জবর দখল করে ঘর নির্মানের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পাকুন্দিয়া প্রেসক্লাব হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরকাওনা মুনিয়ারিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী মো. জুয়েল রানা ও তাঁর পরিবার। এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জুয়েল রানার বড় ভাই মো. হাবিবুর রহমান, মো. ওমর ফারুক ও আব্দুল কাইয়ুম, তাঁর ভাতিজা কামাল ও প্রতিবেশী ফারুক মিয়া। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. জুয়েল রানা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরকাওনা মৌজার এসএ ৬৩ নম্বর খতিয়ানের ৬১১৯ নম্বর দাগ থেকে ১৯৬৬ সালে ৮ শতাংশ জমি পাশের বাড়ির মৃত আব্দুল মান্নান ও আব্দুল জব্বার নামের দুই ভাইয়ের কাছ থেকে সাফ কবলা দলিলে কিনেন আমার দাদা হাসমত উল্লাহ। যার দলিল নম্বর ১৮৭৬। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালের মাঠ জরিপে দাদা হাসমত উল্লাহ ও বাবা শামসুল আলমের নাম রেকর্ডভুক্ত হয়। যার আরএস খতিয়ান নম্বর ৩০৬৯ ও দাগ নম্বর ১৫৬৮৯। ওই জমি প্রায় ৬০ বছর ধরে আমাদের পরিবারের লোকজন ভোগ দখল করে আসছে। তাছাড়া ওই জায়গায় আমার বড় ভাই মো. হাবিবুর রহমান একটি মুদি দোকান নির্মান করে ব্যাবসা করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, হঠাৎ করে গত কিছুদিন ধরে জমি বিক্রেতা মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে গোলাপ মিয়া ও মৃত আব্দুল জব্বারের নাতি রুবেল মিয়া- তাদের চাচাতো ভাই মো. ছাদেক হোসেন খোকনের কুপরামর্শে জমিটি তাদের নিজেদের দাবী করে আসছে। এর জেরে গত রোববার দিবাগত গভীর রাতে ছাদেক হোসেন খোকন, গোলাপ মিয়া ও রুবেল মিয়ার নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একদল ভাড়াটে গুন্ডা নিয়ে জায়গাটি দখল করে সেখানে একটি টিনের ঘর নির্মান করেন।
এ খবর পেয়ে সকালে আমিসহ আমার বড় ভাই ওমর ফারুক, আব্দুল কাইয়ুম ও হাবিবুর রহমান সেখানে ছুটে যাই। এসময় প্রতিপক্ষের লোকজন রামদা, ছুরি ও লাঠি নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমন করতে ছুটে আসে। এসময় আমরা দৌড়ে প্রানে রক্ষা পাই। এছাড়াও প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষে ছাদেক হোসেন খোকন বলেন, এই দাগে মোট ৩৭ শতাংশ জমি রয়েছে। জুয়েল রানার পরিবারের লোকজন তাদের ক্রয় করা ৮ শতাংশ জমির চেয়ে বেশি জমি ভোগ দখল করে আসছে। অতিরিক্ত জমিটুকু ফেরত দেওয়ার জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের বলে আসছি। কিন্তু তারা কর্ণপাত করছিলনা। তাই আমরা তাদের পাওনাটুকু রেখে অতিরিক্ত জায়গাটুকু আমাদের দখলে নিয়ে এসেছি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
